"বরখাস্ত করুন, পদত্যাগ করব না”, অনড় মমতা! নতুন বিধায়কদের কালো পোশাক পরার নির্দেশ
কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, তাঁর দলের যেসব প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন, তাঁদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জোর করে হারানো হয়েছে। এই ঘটনার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং মুখ্য নির্বাচন আধিকারিককে দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, দলের এক হাজার পাঁচশোরও বেশি কার্যালয় দখল করে নেওয়া হয়েছে।
“বরখাস্ত করুন, আমি পদত্যাগ করব না”: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে জানা গেছে, নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলার পর এখন বৃহত্তর বিরোধী জোট আরও ঐক্যবদ্ধ। আমি পদত্যাগ করব না, চাইলে আমাকে বরখাস্ত করা হোক। এই দিনটিকে আমি অন্ধকার দিন হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের দৃঢ় থাকতে হবে। বিধানসভার প্রথম দিনে আমাদের সব বিধায়ক কালো পোশাক পরবেন। যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। আমি হাসছি, কারণ নৈতিকভাবে আমি জয়ী। আমি স্বাধীন, সবার জন্য কাজ করেছি। আমরা হারলেও লড়াই চালিয়ে যাব।”
হিংসা রুখতে দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের: তৃণমূল
দলের মুখপাত্র ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “হিংসা বন্ধ করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং বাস্তবে যা ঘটছে, তার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। এই ধরনের হিংসা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করা আসলে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা কে হবেন বা দলের ভূমিকা কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন, আমরা তাঁর নির্দেশ মেনে চলব।”
সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকার করে জনাদেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, নির্বাচন কমিশনের কাজ নির্বাচন পরিচালনা ও ফল ঘোষণা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, এরপরের সমস্ত প্রক্রিয়া সংবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন