"সবই সংবিধানে স্পষ্ট!" মমতার ইস্তফা না দেওয়ার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর
কলকাতা : তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেই পরাজিত হননি, তাঁর দলও বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে। তবে পরাজয়ের পর তিনি দাবি করেন, তিনি হারেননি, বরং ভোট লুট হয়েছে। তিনি আরও জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। তাঁর এই ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ভবানীপুরে তাঁকে পরাজিত করা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই প্রসঙ্গে বলেন, সংবিধানে সব কিছুই স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, তাই এ বিষয়ে আলাদা করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই।
এদিকে বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যদি প্রকাশ্যে বলেন যে তিনি ইস্তফা দেবেন না, তবে তা ভারতের সংবিধানের অবমাননার সামিল। তাঁর দাবি, এর আগেও একাধিকবার এমন হয়েছে, কিন্তু এবার জনগণের রায় তাঁর বিরুদ্ধে গেছে। তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে রাজ্যের মানুষকেও অসম্মান করা হচ্ছে এবং পশ্চিমবঙ্গ থেমে থাকবে না—উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গত তিন মাস ধরে নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর ছিল। এই সময় সরকার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মুখ্যসচিব, ফলে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি কার্যত দায়িত্বে ছিলেন না। তাই ইস্তফার প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোট গণনার সময় চুরি হয়েছে এবং প্রার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। গণনাকেন্দ্রে থাকা প্রতিনিধিদেরও কেন্দ্রীয় বাহিনী মারধর করে বের করে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এটি গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল।
প্রাক্তন আমলা জওহর সরকার বলেন, বিধানসভার মেয়াদ শেষ হলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায় এবং নতুন বিধানসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ফলাফল বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিধানসভায় পাঠায়, এরপর নতুন সদস্যদের শংসাপত্র দেওয়া হয়।
অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত বলেন, সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ গ্রহণ করান। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বর্তমান মন্ত্রিসভার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে প্রথা অনুযায়ী পুরনো মুখ্যমন্ত্রী কিছুদিন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে থাকতে পারেন। তাই এখনই ইস্তফা না দিলেও কোনো সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয় না, পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাজ্যপালের হাতে

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন