ঘুষের টাকার নোট কেটে খেল ইঁদুর! শেষে জামিন পেলেন প্রাক্তন আধিকারিক, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন
প্রমাণঘরে রাখা ঘুষের টাকা কেটে খেল ইঁদুর! আদালতে এমন দাবি শুনে হতবাক দেশের শীর্ষ আদালত।বিহারে ঘুষকাণ্ডে অভিযুক্ত এক প্রাক্তন সরকারি আধিকারিককে সম্প্রতি জামিন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির সময় আদালত বিস্ময় প্রকাশ করে জানায়, মামলায় বাজেয়াপ্ত করা টাকার নোট নাকি প্রমাণঘরে ইঁদুরে কেটে নষ্ট করে ফেলেছে।
বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং কেভি বিশ্বনাথন-এর বেঞ্চ অভিযুক্ত প্রাক্তন শিশু উন্নয়ন প্রকল্প আধিকারিক অরুণা কুমারীর চার বছরের সাজা স্থগিত করে তাঁকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সত্যিই নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
জামিন দিতে গিয়ে বেঞ্চ মন্তব্য করে, “টাকার নোট ইঁদুরে নষ্ট করে ফেলেছে শুনে আমরা বিস্মিত।” আদালত আরও জানায়, এভাবে বাজেয়াপ্ত টাকা নষ্ট হওয়া রাজ্যের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতি। বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, নিরাপদে সংরক্ষণ না করার কারণে এমন কত টাকা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তার হিসেবই বা কোথায়?
ঘটনাটি ২০১৯ সালের। তখন বিহার অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা অরুণা কুমারীর বিরুদ্ধে ফাঁদ পেতে অভিযান চালায়। অভিযোগ ছিল, শিশু উন্নয়ন প্রকল্প আধিকারিক হিসেবে তিনি ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি ও গ্রহণ করেছিলেন। অভিযানের পর তদন্তকারীরা দাবি করে, তাঁর কাছ থেকে ওই টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে সেই টাকা একটি খামে সিল করে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে প্রমাণঘরে জমা রাখা হয়।
কিন্তু দুর্নীতি দমন আইনে চলা মামলার শুনানিতে দেখা যায়, ঘুষের সেই টাকা আর নেই। সরকারি পক্ষ আদালতে জানায়, প্রমাণঘরের নথিতে খামের অস্তিত্ব মিললেও আসল নোট আদালতে পেশ করা সম্ভব হয়নি। কারণ, প্রমাণ রাখার ঘরে ইঁদুরের উপদ্রব হয়েছিল এবং তারা খাম-সহ টাকার নোট কেটে নষ্ট করে দেয়।
প্রথমে নিম্ন আদালত অরুণা কুমারীকে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছিল। পরে রাজ্য সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে পাটনা হাই কোর্ট-এ আবেদন করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে অরুণা কুমারীকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত ইঁদুরের কারণে প্রমাণ নষ্ট হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও জানায়, তাতে সরকারি পক্ষের মামলা দুর্বল হয়ে যায়।
নিম্ন আদালতে বেকসুর খালাস পেলেও পরে উচ্চ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন অভিযুক্ত আধিকারিক। এখন এই ‘ইঁদুর-কাণ্ড’ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন