“বিজেপিকে শুভেচ্ছা, কিন্তু টলিউডে ‘নিষেধাজ্ঞা’ কেন?” বিস্ফোরক পোস্টে ঝড় তুললেন দেব
কলকাতা : বাংলার রাজনীতির পালাবদলের মাঝেই এক চাঞ্চল্যকর মোড়। অভিনেতা-সাংসদ দেব-এর একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্ট ঘিরে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। যিনি এতদিন তৃণমূল কংগ্রেস-এর ঘনিষ্ঠ মুখ হিসেবে পরিচিত, সেই দেবই ফল প্রকাশের পর এমন বার্তা দিলেন, যা শুধু রাজনীতি নয়, নাড়া দিয়েছে গোটা বাংলা চলচ্চিত্র জগতকেও।
পোস্টের শুরুটা ছিল ভদ্রতা ও রাজনৈতিক শালীনতায় ভরা। জয়ী ভারতীয় জনতা পার্টি-কে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেব বলেন, মানুষের রায়ই শেষ কথা, আর সেই রায়কে সম্মান করাই গণতন্ত্রের আসল চেহারা। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, আসল বার্তা লুকিয়ে ছিল পরের অংশে।
হঠাৎ করেই তিনি তুলে আনেন বাংলা সিনেমার অন্দরমহলের চাপা ক্ষোভ। স্পষ্ট ভাষায় জানান—শিল্পীদের স্বাধীনতা যেন কোনওভাবেই খর্ব না হয়। “নিষেধাজ্ঞা” ও “গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব”-এর মতো শব্দ ব্যবহার করে তিনি যেন ইঙ্গিত দিলেন, টলিউডের ভেতরে অনেক কিছুই ঠিকঠাক চলছে না।
এই বক্তব্যের পরই সামনে আসে পুরনো এক দ্বন্দ্বের গল্প। ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া-এর সঙ্গে দেবের দূরত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল। কাজের অনুমতি, নিয়মকানুন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মতবিরোধ—সব মিলিয়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন বহুদিনের। যদিও প্রকাশ্যে খুব বেশি কিছু বলা হয়নি, তবে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে অসন্তোষ ছিলই।
তাই যখন দেব বলেন, “বিভাজনের সংস্কৃতি শেষ হওয়া দরকার”, তখন অনেকেই মনে করছেন—এটি নিছক সাধারণ মন্তব্য নয়, বরং পুরনো অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন। তাঁর বার্তা স্পষ্ট—সবাইকে একসঙ্গে চলতে হবে, না হলে বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়বে।
তবে শুধুই ইন্ডাস্ট্রির কথা বলে থেমে থাকেননি তিনি। নিজের সাংসদীয় দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দিয়ে ঘাটালের বহু প্রতীক্ষিত ‘ঘাটাল মাস্টার পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে নতুন সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। তাঁর মতে, এটি শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, হাজার হাজার মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত।
দেবের এই পোস্ট এখন শুধুই একটি শুভেচ্ছা বার্তা নয়, এটি যেন একসঙ্গে রাজনীতি, শিল্পী স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিস্ফোরণ। পরিবর্তনের এই সময়ে তাঁর এই বার্তা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, বাংলার রাজনীতি আর সংস্কৃতির সম্পর্ক কোন দিকে এগোচ্ছে?

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন