"পদ ছাড়ব না", বাংলার রাজনীতিতে ঝড় তুললেন মমতা
কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তিনি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করবেন না এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদও ছাড়বেন না। তাঁর দাবি, তিনি নৈতিকভাবে এই নির্বাচন জিতেছেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বাংলা থেকে দিল্লি পর্যন্ত রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে—তিনি আদৌ পদত্যাগ করবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি পদত্যাগ করব না, আমি হারিনি। আমি রাজভবনে যাব না—এ প্রশ্নই ওঠে না। আমরা এই নির্বাচন হারিনি, আমাদের হারানোর চেষ্টা হয়েছে। সরকারি হিসেবে আমাদের হারানো হতে পারে, কিন্তু নৈতিকভাবে আমরা জিতেছি।”
এই লড়াইয়ে তাঁর পাশে রয়েছে বিরোধী জোটের অন্যান্য নেতারাও। তিনি জানান, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব এবং হেমন্ত সোরেন তাঁকে ফোন করে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সবাই তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং আগামী দিনে এই ঐক্য আরও শক্তিশালী হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমার লক্ষ্য খুব পরিষ্কার। আমি সাধারণ মানুষের মতো থেকে এই জোটকে আরও শক্তিশালী করব। এখন আমার কাছে কোনও পদ নেই, তাই আমি একজন সাধারণ নাগরিক। আমি একজন মুক্ত পাখির মতো। আমি সারাজীবন মানুষের সেবা করেছি, এত বছরেও কোনও ভাতা বা বেতন নিইনি। এখন আমি স্বাধীনভাবে কাজ করব।”
তিনি দাবি করেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে পরাজয়ের পর পদত্যাগ করতে অস্বীকার করছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁরা নির্বাচনে হারেননি, বরং তাঁদের হারানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই লড়াই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নয়, বরং নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থার বিরুদ্ধেই ছিল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বলেন, এই ঘটনা বাংলার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। তিনি দাবি করেন, দলীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টা হয়েছে, গণনা কেন্দ্রে হিংসার ঘটনা ঘটেছে এবং তাঁকে সেখানে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এখনও তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কিছু জানাননি, শুধু বলেছেন তাঁদের লড়াই চলবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন