বাংলায় বিজেপির জয় নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা, মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এই জয় অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও নির্ণায়ক, কারণ প্রথমবারের মতো বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে চলেছে। ট্রাম্প এই জয়কে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের দৃঢ় সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২০৭টি আসন জিতেছে। অন্যদিকে, এতদিনের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় বড় পতন। বিজেপির ভোটের হার প্রায় ৪৫.৮ শতাংশ, যা আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তৃণমূলের ভোটের হার নেমে এসেছে প্রায় ৪০.৮ শতাংশে।
এই ফলাফলের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। তিনি নিজেও ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে তার প্রাক্তন সহকর্মী শুভেন্দু অধিকারী-র কাছে পরাজিত হয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক মন্ত্রীও ভোটে হার স্বীকার করেছেন। উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং কলকাতার বেশ কিছু এলাকায় বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সন্দেশখালি ও আরজি কর ইস্যু, দুর্নীতির অভিযোগ এবং উন্নয়নের দাবি—এসব বিষয় জনমতের উপর প্রভাব ফেলেছে এবং শাসকবিরোধী প্রবণতা বাড়িয়েছে। কংগ্রেস ২টি এবং সিপিআই(এম) ১টি আসন পেয়েছে।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো দক্ষিণপন্থী সরকারের সূচনা হতে চলেছে। আগামী ৯ মে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন, সুশাসন ও পরিবর্তনের বার্তা ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ফলাফলকে ‘লুট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি বলছে, এটি বিরোধীদের হতাশার প্রতিফলন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন